জেনে নিন বয়সে বড় মেয়েদের বিয়ে করলে কি হয়

সাধারণত একটি পুরুষ তার থেকে বয়সে ছোট মেয়েকেই বিয়ে করে থাকে। আর আমাদের সমাজে সাধারণত এই রীতিটিই সবাই মেনে চলে। কিন্তু একটা পুরুষকে যে তার থেকে বয়সে ছোট মেয়েকে বিয়ে করতেই হবে, এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। এটা যার যার নিজের ব্যাপার। তবে একটা পুরুষ যদি তার থেকে বয়সে বড় বা অনেক বড় কোন মেয়েকে বিয়ে করে, তাহলে সেক্ষেত্রে আমাদের সমাজ তা সহজে মেনে নেয় না। আর এভাবে বিয়ে করলে বিভিন্ন শারীরিক বা মানসিক সমস্যাও হতে পারে।

আবার অনেকে মনে করে যে, তাদের থেকে বয়সে বড় কোন মেয়েকে বিয়ে করলে অনেক লাভ আছে। এরকম অনেক উদাহরণও আছে। যেমন- অভিষেক-ঐশ্বরিয়া, সচিন-অঞ্জলি, সুবর্না মোস্তফা ও সৌদ।শুধু যে তারকারাই এরকম করে, তা কিন্তু নয়। অনেক সাধারণ মানুষও এ রমকম বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তবে বিয়ে করলে সাধারণত ছেলেদের মেয়েদের থেকে বয়সে বড় হওয়াটাই ভাল। কারণ বয়সে বড় মেয়েদের বিয়ে করলে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়।

বয়সে বড় মেয়েদের বিয়ে করলে যে সকল সমস্যায় পড়তে হয়ঃ

মানুষের সমালোচনাঃ

আমাদের সমাজে কোন ছেলে যদি তার থেকে বয়সে বড় কোন মেয়েকে বিয়ে করে, তাহলে তা সহজে মেনে নিতে চায় না। তারা সাধারণত এই রকম দম্পতি দের নিয়ে শুধু গোপনে সমালোচনাই যে করে, তা নয়, এদের সাথে প্রকাশ্যে ঠাট্টা তামাশা করে।

পারিবারিক সমস্যাঃ

এই ধরনের বিয়ে পরিবারের লোকজনও সাধারণ মেনে নিতে পারে না। কারণ মানুষের সমালোচনা শুনতে তাদের কাছেও খারাপ লাগে।

স্বামী স্ত্রী মধ্যে পারস্পারিক দুরত্বঃ

এই ধরনের সম্পর্কে স্বামীর থেকে স্ত্রীর বয়স বেশি হওয়ায় স্ত্রীর চেহারায় আগেই বয়সের ছাপ চলে আসে। আর তখন অনেক পুরুষ তার স্ত্রীর প্রতি ভালবাসা হারিয়ে ফেলেন। এমনকি স্ত্রীকে বাইরে নিয়ে যেতে ও অন্যের সাথে পরিচয় করাতে সংকোচবোধ করেন। যার ফলে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে একটা পারস্পারিক দুরত্বের সৃষ্টি হয়।

মানসিক চাপঃ

এই রকম সম্পর্কে সবচেয়ে মানসিক চাপে থাকে একজন স্ত্রী। কারণ, নানা ধরনের সমালোচনা, স্বামীর সাথে ভুল বোঝাবুঝি ইত্যাদি কারণে চরম মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়। যা ছেলে মেয়ে উভয়ের মধ্যেই হয়ে থাকে। তবে মেয়েদের এক্ষেত্রে বেশি হয়। এমনকি সনসার পর্যন্ত ভেঙ্গে যায়।

যৌ’নজীবনের সমস্যাঃ

এই ধরনের সম্পর্কে যৌ’ন পরস্পরের প্রতি যৌন সম্পর্কে অনেক অসাম্নজ্জত্যতা দেখা দেয়। কারণ একটি মেয়ের বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার যৌ’ন আকাঙ্গা কমতে থাকে। অপরদিকে পুরুষের কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে যৌ’ন আকাঙ্ক্ষা তেমন কমে না।

বাচ্চা প্রসবে সমস্যাঃ

একটি মেয়ের বয়স ৩৫ এর বেশি হলেই তার গর্ভধারণ ঝুকিপূর্ণ হয়ে যায়। যার ফলে একটি ছেলে যদি একটু দেরিতে সন্তানের বাবা হতে চায়, তখন নানা বিপত্তি ঘটে যায়। মেয়ের বয়স বেশি হওয়ায় অনেক সময় বাচ্চা হয় না। আর এর দরূণ দাম্পত্য কলহ হয়।

বোঝাপড়ার সমস্যা :

বয়সে বড় মেয়ে স্ত্রী হওয়ার তার অভিজ্ঞতাও স্বামীর থেকে বেশি হয়। আর এই জিনিসটিই অনেক স্বামী মেনে নিতে পারে না। স্ত্রী অনেক অভিজ্ঞার কথা বললে স্বামী মনে করে স্ত্রী তার উপর কর্তৃত্ব করছে। এছাড়া তাদের মধ্যে মনের মিলও কখনোই ঘটে না।

তবে এরকম অনেক দম্পতিও রয়েছে যে, তাদের মধ্যে কোন সমস্যাই ঘটেনি। বিপরীতে তারা মনে করে যে, স্ত্রীর স্বামীর থেকে বয়সে বেশি হওয়ায় ভাল। তাদের যুক্তি হল, স্বামীর থেকে বয়সে বড় স্ত্রীরা কথায় কথায় ছেলেমানুষি কম করে, তারা শারীরিক সম্পর্কের ব্যাপারে অনেক অভিজ্ঞ হয়, যা ছেলেরা পছন্দ করে, এছাড়া জীবনে বড় বড় সমস্যার সম্মুখীন হলে বয়সে বড় স্ত্রীরা সহজে সমাধান করে দিতে পারে।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।