নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের অপেক্ষায় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু!

ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তিতাস ঘোষ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হচ্ছিল। এই সময় তার অ্যাম্বুলেন্সের গতি রোধ করে তিন ঘণ্টা যাবত আটকে রাখে শিমুলিয়া ঘাটের ফেরি কর্তৃপক্ষ।

এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পথেই মারা যায় তিতাস ঘোষ। তার অ্যাম্বুলেন্সের গতি রোধ করে তিন ঘণ্টা যাবত আটকে রাখা হয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবদুস সবুর মন্ডলের জন্য, এমনটি বলেছে তার পরিবার।

গত ২৪-০৭-১৯ তারিখে বাইক এক্সিডেন্টে তিতাসের মস্তিকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়, তখন তাকে ডাক্তাররা ঢাকাতে নিয়ে যেতে বলেন। তিতাসের পরিবার প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরছ করে তাকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

কাঠালবাড়ি ফেরি ঘাট-১ এ আনুমানিক রাত আটটায় যখন তারা পৌছায় তখন তাদের জানানো হয় যে নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের কোন একজন ভিআইপির আত্মীয় বিয়ে খেতে যাবে, তাই ফেরি চলাচল সাময়িক ভাবে বন্ধ থাকবে। এই সময় তাদের অ্যাম্বুলেন্সেকে তিন ঘণ্টা যাবত আটকে রাখে শিমুলিয়া ঘাটের ফেরি কর্তৃপক্ষ।

এই বিষয়ে তারা স্থানীয় পুলিশ ,সেনাবাহিনীর লোকজন, পুলিশ আইজিপি, এমনকি 999 হেল্প লাইনে ফোন করেও কারো থেকে কোন সাড়া পাইনি। ৩ ঘন্টা পর ভিআইপি আসার পর ফেরি ছাড়লে তারা সেখান থেকে রওনা দেয়। পরে মাওয়া ঘাটের বেশ কাছাকাছি এসে তিতাস তার শেষ নিংশ্বাস ত্যাগ করে।

ছোটভাই তিতাসকে হারিয়ে বড়বোন কেয়া ঘোষ ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন, তার এই স্ট্যাটাসে তিনি পুরো ঘটনাটি তুলে ধরেন।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।