পান্তা ভাত খাওয়া কি শরীরের জন্য ক্ষতিকর!

রাতের খাবারের জন্য রান্না করা ভাত বেঁচে গেলে, সেটি কিছু পরিমাণ পানি দিয়ে ডুবিয়ে সকাল পর্যন্ত সংরক্ষণ করে রাখার প্রক্রিয়াকে পান্তা ভাত বলে। সকালের নাস্তায় অনেকেরই এটি খুব প্রিয় খাবার।
আমরা সকলেই জানি যে, ভাত শর্করা জাতীয় খাবার। কিন্তু এই ভাতে পানি দিয়ে রাখলে এর মধ্যে সৃষ্ট গাজনকারী ব্যকটেরিয়া এই শর্করাকে ভেঙ্গে ফেলে। যার ফলে এতে ইথানল ও ল্যাক্টিক এসিড তৈরী হয়। ল্যাক্টিক এসিড ভাতের অম্লত্বকে বাড়িয়ে দেয়। যার ফলে গাজনকারী ব্যাকটেরিয়া ভাত নষ্ট করতে পারে না।
এছাড়া এই পান্তা ভাতে প্রচুর পরিমাণ আয়রন তৈরী হয়, যা সাধারণ ভাতের তুলনায় অনেক গুণ বেশী হয়। এছাড়া এতে পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের পরিমাণও অনেক বেড়ে যায়।আর সোডিয়ামের পরিমাণ অনেক কমে যায়।

পান্তা ভাত (১০০ গ্রাম)
আয়রন ৭৫ মিলিগ্রাম
ক্যালসিয়াম ৮৬০ মিঃলিঃ
পটাশিয়াম ৮৩৯ মিঃলিঃ
সোডিয়াম ৩০৫ মিঃলিঃ

সাধারণ ভাত( ১০০ গ্রাম)
আয়রন ৩.৪ মিলিগ্রাম
ক্যালসিয়াম ২২ মিঃলিঃ
পটাশিয়াম ২১ মিঃলিঃ
সোডিয়াম ৫০০ মিঃলিঃ

অর্থাৎ পান্তা ভাতে আয়রণ, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম অনেক বেড়ে যায়। আর সোডিয়াম কমে যায়। যেটা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ভাল।
এছাড়া পান্তা ভাত ভিটামিন বি-৬ ও বি১২ তৈরী হয়। আর এটা জলীয় খাবার হওয়াতে গরমের দিনে এটি আমাদের শরীরের পানির চাহিদা পুরণ করে ও আমাদের শরীর সতেজ রাখে।
পান্তা ভাতে অনেক উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরী হয়, যার ফলে এটা আমাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে শরীরে তাপের ভারসাম্য বজায় রাখে।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।