বোধহয় এক বিস্ময়ই সৃষ্টি করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন! সারাবিশ্ব যখন করোনাভাইরাসের ভয়ে ভীত, শক্ত কোনও পথ খুঁজছে মুক্তির; তখন কী এই ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছেন তিনি! ঠেকিয়ে দিতে পেরেছেন করোনার ভয়াল থাবা? রুশ প্রেসিডেন্টের কথা শুনলে অবশ্য সে রকমই মনে হয়। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যও সে ধরনেরই আশ্বাস দিচ্ছে। পরিস্থিতি নাকি ‘নিয়ন্ত্রণে’ আছে।

বিশ্বে প্রতি মুহূর্তেই বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। বিজ্ঞানীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ওষুধ আবিষ্কারের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শোনাচ্ছে আশার কথা। তবে তা কার্যকর হতে আরও অনেক দেরি। এসবের মধ্যেই চলতি সপ্তাহে ভ্লামিদির পুতিন বলেছেন, করোনার বিস্তার ঠেকাতে পেরেছে আমাদের দেশ। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।

রাশিয়া সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী- করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে পুতিনের কৌশল কাজে দিয়েছে। চীনের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত থাকা এই দেশে জানুয়ারিতে প্রথম ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিলেও বিস্ময়করভাবেই আক্রান্তের সংখ্যা এখন একেবারেই কম। প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি জনসংখ্যার দেশ রাশিয়ায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৫৩। অথচ ৬ লাখ ২৮ হাজার মানুষের দেশ লুক্সেমবার্গে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৭০। সিএনএন বলছে, চীনে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ার পরপরই সচেতন হয়ে যায় রাশিয়া। ৩০ জানুয়ারি চীনের সঙ্গে ২৬শ’ মাইলের সীমান্ত বন্ধ করে দেয় তারা। ওই মুহূর্তে কোয়ারেন্টাইন জোন গড়ে তোলে পুতিনের সরকার। করোনা ঠেকাতে রাশিয়ার এই কৌশল কাজে দিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

রাশিয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ড. মেলিতা ভোজনোভিস বলেছেন, সংস্থার পরিচালক বার বার বলেন-পরীক্ষা, পরীক্ষা, পরীক্ষা। আক্ষরিক অর্থে এই পরীক্ষাই জানুয়ারির শেষে শুরু করে রাশিয়া। একই সঙ্গে সীমান্ত বন্ধে পদক্ষেপ নেয় তারা। তিনি বলেন, পরীক্ষা এবং করোনায় আক্রান্তদের শনাক্ত, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রাখার রাখার কথা বলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এটিই করেছে রাশিয়া। সামাজি দূরত্ব অর্থ্যাৎ একজন থেকে আরেকজনের দূরে রাখার ব্যাপারটিও এই সংকোট মোকাবিলায় কার্যকরী ভূমিকা রাখে। অন্য যেকোনও দেশের তুলনায় খুব দ্রুত গতিতে করোনার পরীক্ষা চালিয়েছে রাশিয়া। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে ব্যাপকহারে এই কার্যক্রম চালু করে তারা।

বিমানবন্দরে বিশেষ করে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসা ব্যক্তিদের পরীক্ষায় বেশি গুরুত্ব দেয় দেশটি। তবে বিপদ দেখা দেয় ইতালি থেকে আসা ব্যক্তিদের নিয়ে। এই দেশ থেকে ফেরা ব্যক্তিদের ওপর তেমন গুরুত্ব না দেওয়ায় ছড়াতে থাকে ভাইরাসের সংক্রমণ। তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সম্ভব হয় বলে কর্তৃপক্ষের দাবি। অবশ্য পুতিন কিংবা সরকারি কর্তৃপক্ষ করোনা নিয়ন্ত্রণের খবর দিলেও দেশের মধ্যেই তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আক্রান্ত ও মৃতের তথ্যের সত্যতা নিয়ে কথা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রথম করোনার অস্তিত্ব ধরা পড়ে; এরপর তা ছড়িয়ে পড়েছে সারাবিশ্বে। প্রথম দিকে চীনে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও এখন তা নিয়ন্ত্রণে। সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ২১ হাজারের বেশি মানুষের; আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪ লাখ ৮৫ হাজার।

সূত্র- দেশরূপান্তর