ইতিমধ্যে সারা দেশে সবার নজরে এসেছে ১০ বছরের শিশু নাঈম। বনানীর আগ্নিকান্ডের ঘটনায় সে, যে সাহসিকতা ও মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছে তা বিরল। বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার পর সবাই যখন উপরের দিকে তাকিয়ে থাকতে ও ছবি তুলতে ব্যস্ত, ঠিক সেইসময় খুব কম মানুষই সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছে শিশু নাঈম একজন। নাইমের বয়স খুব বেশি হলে ১০ কিংবা ১১। সে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র।

এই ছোট বয়সে সে আর কি বোঝে, তার শিশু মন থেকে যখন ছেলে মানুষী দূর হওয়ার কথা নয়, তখন সে ফায়ার সার্ভিসের সাথে মিলে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের পানির পাইপে ছিদ্র থাকার কারণে যখন পানি সহজে উপরে পৌছাতে পারছেনা, ঠিক সেই সময় সে একটি পলিথিন দিয়ে পাইপের ছিদ্রের উপর চাপ দিয়ে ধরে থাকে, যাতে পানি বের হয়ে না যায়। তার এই কর্মকান্ডের ছবি ও ভিডিও সেই দিনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে ভাইরাল হয়, আর চারিদিকে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে।

এই দেখে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক বাংলাদেশি ওমর ফারুক, তাকে পুরুস্কার সরূপ পাঁচ হাজার ডলার দিতে চান যা বাংলাদেশি টাকায় চার লাখের মত। তিনি এই টাকাটি নাইমকে পুরুস্কার সরূপ দিয়ে, তার পড়াশোনার দায়িত্বও নিতে চান। কিন্তু এই টাকা গুলো নাঈম নিজে না নিয়ে, এতিমখানাতে দান করতে চান যাতে সেই টাকা থেকে এতিম বাচ্চাদের কিছু উপকার হয়।

সম্প্রতি শাহারিয়ার নাজিম জয়ের কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সে বলে যে সে পুরষ্কারের টাকা এতিম খানায় দান করতে চায়।কারণ, এতিমদের টাকা অনেকেই মেরে খায় যা তার পছন্দ না। এটি বলে সে আবার তার উদার মনের পরিচয় দিয়েছে। নাঈমের নিজের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভাল না, তার বাবা আর মায়ের তালাক হয়ে গেছে কয়েক বছর আগে।তালাক হয়ে যাওয়ার পরও সে তার মায়ের সাথেই থাকে।